• ঢাকা বুধবার
    ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

অর্থসংকটে মাস পেরোলেও বেতন পাননি ২ লাখ মাদ্রাসাশিক্ষক

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

অর্থসংকটে মাস পেরোলেও বেতন পাননি ২ লাখ মাদ্রাসাশিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে বেতন পেলেও তীব্র অর্থকষ্টে দিন কাটছে মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত প্রায় ২ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর। অতীতে প্রতি মাসের বেতন পরবর্তী মাসের শুরুর দিকে পেলেও এবার মাস শেষ হতে চললেও মে মাসের বেতন পাননি তাঁরা। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চরম বাজেট-সংকটের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মে মাসের বেতন পাননি।

সূত্র জানান, অন্য মাসের মতো যথারীতি মে মাসের শেষ দিকে ওই মাসের বেতন-ভাতার কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল; যা জুনের শুরুতেই বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থছাড় পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি যথাসময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। ঈদের ছুটি শেষে চলতি জুনের শুরুতে গত মাসের (মে) বেতনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও ফান্ডে টাকা না থাকায় তা অনুমোদন দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও এই বেতন না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মো. নুরুল আমীন সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার সমস্যাটি দ্রুততম সময়ে সমাধানের জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আরও বলা হয়, দেশের আট বিভাগে আটটি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পরিশোধের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। ফলে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যসব মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। সেজন্য বেতন-ভাতা পরিশোধে কয়েক দিন বিলম্ব হচ্ছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলমান অর্থবছরে বাজেট-সংকট থাকায় মে মাসের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি শিক্ষক-কর্মচারীদের। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির সঙ্গে সত্যতার সংযোগ পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি অর্থবছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষককের বেতন খাতে ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। এরপর সম্পূরক বাজেটের ১১১ কোটি টাকা চাওয়া হলেও বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫০০ কোটি টাকা, যা চাহিদার তুলনায় কম।

সূত্র আরও জানান, মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন-ভাতার অর্থ ছাড় করতে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার জন্য অর্থ বিভাগের সচিব বরাবর ইতোমধ্যে একাধিকবার ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। তবে এ অর্থ পাওয়া যায়নি।

শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা না পাওয়ার ব্যাপারে জানতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. উবায়দুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। মোবাইলে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আর্কাইভ