প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
নতুন বল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিলো না বাংলাদেশ। তারচেয়ে বরং পুরোনো বলে নাঈম হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজের স্পিন ঘূর্ণিতেই আস্থা রাখলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪ উইকেট শিকার করে ২৪৫ রানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দিলেন নাঈম। ফলে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড পেয়েছে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে টেস্টে দ্রুততম (বলের হিসাবে) ৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন নাঈম। এক্ষেত্রে তার লেগেছে ২৮৫৬ বল। পরে আরও দুই উইকেট নেন ২৬ বছর বয়সী এই অফস্পিনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ১১ রানেই হারায় ৪ উইকেট, এর মধ্যে তিনটি নাঈম এবং আরেকটি মিরাজের দখলে।
এর আগে ক্যারিবীয়রা যেভাবে ব্যাটিং করছিল, তাদের লিড নেওয়া স্বাভাবিক ব্যাপারই মনে হতে পারত। প্রথম সেশন শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ২১৩ রান। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৬০ বলে ৫টি চারে ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে অপরপ্রান্তে সতীর্থরা যাওয়া-আসার মিছিলে ক্যারিবীয়দের ইনিংস ২৪৫ রানের বেশি আগাতে দেননি।
এর আগে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ শেষ দিকে বিপর্যয়ের পর ২৭২ রানে অলআউট হয়। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতগতিতে রান তুলে উইন্ডিজরা। জন ক্যাম্পবেল দু’বার জীবন পাওয়ার পর হাফসেঞ্চুরি করেন। যদিও তাকে বেশিদূর যেতে দেননি মিরাজ। ৭৮ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ রান করেন ক্যাম্পবেল। দিনশেষে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকা তেজনারায়ণ চন্দরপলও আজ (শুক্রবার) শুরুতেই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন।
১৮৪ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রান করার পর চন্দরপলকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্ত’র ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। এর আগে তিনি জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েছিলেন। গ্রিভসও একবার লাইফ পেয়েছেন মুমিনুল হক সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ায়। পরে নাঈমের অফসুইংয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে তিনি ১০৩ বলে ২ চারে ৪৬ রানে ফিরেছেন।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে বাংলাদেশ বেশিরভাগ ওভার করিয়েছে দুই অফস্পিনার দিয়ে। তারা ভাগাভাগি করে বাকি ৪ উইকেট তুলে নেন। অভিষিক্ত ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ নেমেই তিনটি চার মেরেছেন, তবে ১৫ রানেই তাকে ফিরতে হলো মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে। এরপর শামার জোসেফকে (৪) উইকেটকিপার লিটনের হাতে, জোমেল ওয়ারিকানকে (০) এলবিডব্লিউ এবং জেইডেন সিলসকে (০) মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেন নাঈম।
নাঈমের ৪ শিকার ছাড়াও মিরাজ ও তাইজুল ২টি করে উইকেট শিকার করেন। হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম নেন ১টি করে।