• ঢাকা বুধবার
    ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

ফরিদপুরে স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা ও যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূ উপর নির্যাতন

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

ফরিদপুরে স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা ও যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূ উপর নির্যাতন

ফরিদপুর প্রতিনিধি

স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় ও  যৌতুকের টাকা না দেয়ায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়েছে গৃহবধূ।

জানাযায়, ফরিদপুর সদর উপজেলা কোতায়ালী থানার মাচ্চর ইউনিয়ন পরানপুর গ্রামের মোঃ আইয়ুব আলী খাঁর ছোট মেয়ে শম্পা আক্তার (২৩) এর সাথে রাজবাড়ী থানার বসন্তপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের ইয়াকুব শেখের বড় ছেলে  সুমন শেখ (৩৫) এর সাথে ১৪/০২/২০ সনে বিবাহ হয়।

শম্পা আক্তার জানান, স্বামী সুমন শেখ বেকার থাকায় সংসারে নানা বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলতে থাকে। কিছু দিন পর পর স্বামী সুমন শেখ (আমাকে) স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে। টাকা দিলে ভাল আর না দিলে স্বামীর নির্যাতন,শশুর শাশুড়ির অমানবিক আচারণ। শ্বশুর বাড়ির এমন ঘটনা জানতে পেরে আমার বাবা আমাকে নিজ বাড়ি নিয়ে আসে।

তিনি আরো জানান,  সুমন শেখ কিছু দিন পরে বিদেশে যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়িতে লোন হিসাবে  টাকা দাবি করে। আমি আমার স্বামীকে পাঁচ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে ২১ সালের নভেম্বর মাসের ২৬ তারিখে  বিদেশে পাঠাই। বিদেশে যাওয়ার কিছু দিন ভাল থাকার পর সুমন শেখ আমার সাথে যোগাযোগ সহ ভরন পোষান সব কিছু বন্ধ করে দেয়। এদিকে সুমন বিদেশে থাকায় শ্বশুর ইয়াকুব  শেখের নজর পরে ছেলের বউ এর উপরে। তাকে নানান ভাবে কু- নজর দিতে থাকে। শ্বশুরের এমন আচারণ দেখে আমি আমার  বাবার বাড়ি চলে আসি।

শম্পার স্বজন মামুন মোল্লা জানান, সুমন শেখ বিদেশ থেকে বাড়ি এসে আর বেশী উগ্র হয়ে পরে। মিথ্যা বানোয়াট অপবাদ দিয়ে স্ত্রীর উপর চরম আকারের নির্যাতন চালায়। পরিস্থিতি অনুকুলের বাইরে চলে গেলে। স্ত্রী শম্পা আক্তার স্বামী সুমন শেখের বিরুদ্ধে রাজবাড়ি বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেন।

স্ত্রীর মামলা করার বিষয় জানতে পেরে সুমন শেখ রাজবাড়ী বিজ্ঞ সদর আমলী আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চেক বই নেয়ার অভিযোগ জানিয়ে মামলা দায়ের করে। সেই মামলা হাজিরা ছিল ০৫/০৫/২০২৬ ইং তারিখে। একই তারিখে সকল ৯ টায় রাজবাড়ী থানার বসন্তপুর বাজার সংলগ্নে মামলা হাজিরা দিতে কোর্টে যাওয়ার পথে শম্পা আক্তারকে ইজি বাইক  থেকে নামিয়ে স্বামী সুমন শেখ মারধর করে এবং সেটা ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে। সেই সময় রাস্তায় থাকা হাইওয়ে পুলিশ শম্পা আক্তারকে  উদ্ধার করে। পরে শম্পা আক্তার গুরুতরও অসুস্থ অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং সুমন শেখ ক্ষমা প্রার্থনা করে রক্ষা পায়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায় বিচার চাই  আমরা।
 

দেশজুড়ে সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ