প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি শুধু একটি দেশের ট্র্যাজেডি নয়, এটি পুরো বিশ্বের জন্য একটি কঠিন সতর্কবার্তা। মুহূর্তের মধ্যে হাজারো পরিবার স্বজন হারিয়েছে, অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়েছে এবং একটি জাতি গভীর শোকের মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে।
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা, দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা এবং কার্যকর ত্রাণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ মানুষের সক্ষমতার মধ্যেই পড়ে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, দুর্যোগ-পরবর্তী প্রথম ৭২ ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রম যত দ্রুত পরিচালিত হয়, জীবিত মানুষকে উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে।
ভেনেজুয়েলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর পেশাদার ভূমিকা প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ—সরকারি তৎপরতা প্রত্যাশিত গতিতে শুরু হয়নি—এটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। দুর্যোগের সময় প্রশাসনিক ধীরগতি অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উন্নত সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।
এ ধরনের বিপর্যয়ের পর আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনস্বাস্থ্য। নিরাপদ পানি, চিকিৎসা, আশ্রয় এবং স্যানিটেশন নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশও ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই ভেনেজুয়েলার এই বিপর্যয় আমাদের জন্যও একটি শিক্ষা। নিরাপদ ভবন নির্মাণ, নিয়মিত মহড়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী গড়ে তোলার বিকল্প নেই। দুর্যোগের সময় প্রস্তুতিই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।
মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সভ্যতার পরিচয়। ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া।
প্রকৃতির কাছে মানুষ অসহায় হতে পারে, কিন্তু প্রস্তুতি, দক্ষতা এবং মানবিক সংহতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। ভেনেজুয়েলার এই ট্র্যাজেডি সেই বাস্তবতাই আবারও স্মরণ করিয়ে দিল।