প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত সংগঠনগুলোর একটি হলো Hamas। একদিকে সংগঠনটি নিজেদের ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে পরিচয় দেয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই দ্বৈত পরিচয়ই হামাসকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম জটিল বিষয় করে তুলেছে।
হামাসের জন্ম
হামাসের পূর্ণ নাম হারাকাত আল-মুকাওয়ামা আল-ইসলামিয়া (Islamic Resistance Movement)। ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম ইন্তিফাদার সময় সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন Ahmed Yassin, Abdel Aziz al-Rantisi এবং আরও কয়েকজন ইসলামপন্থী নেতা।
শুরুতে হামাস ছিল মুসলিম ব্রাদারহুডের ফিলিস্তিনি শাখার একটি সম্প্রসারণ। তবে খুব দ্রুতই এটি স্বাধীন রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠনে পরিণত হয়।
আদর্শ ও লক্ষ্য
হামাসের প্রধান লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান। সংগঠনটি রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সশস্ত্র প্রতিরোধকে বৈধ কৌশল হিসেবে দেখে।
২০১৭ সালে হামাস একটি নতুন নীতিপত্র প্রকাশ করে, যেখানে ১৯৬৭ সালের সীমারেখাভিত্তিক একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণা উল্লেখ করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি।
সামরিক শাখা
হামাসের সামরিক শাখার নাম Izz ad-Din al-Qassam Brigades। এই বাহিনী রকেট হামলা, সুড়ঙ্গ নির্মাণ, ড্রোন ব্যবহার এবং গেরিলা কৌশলের জন্য পরিচিত।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে বহু বছরের সংঘাতে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলো তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত করে।
গাজায় ক্ষমতায় আসা
২০০৬ সালে ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচনে হামাস অপ্রত্যাশিত বিজয় অর্জন করে। এরপর রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ২০০৭ সালে হামাস গাজা উপত্যকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর থেকে গাজা কার্যত হামাসের প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, আর পশ্চিম তীর শাসন করছে Fatah-নেতৃত্বাধীন Palestinian Authority।
অর্থায়নের উৎস
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের অর্থায়নের উৎস বহুমুখী। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি সহায়তা, বিভিন্ন দাতব্য নেটওয়ার্ক, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং কর আদায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ইরানের সামরিক ও আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও অভিযোগ এক নয়।
২০২৩–২০২৬: সংঘাতের নতুন অধ্যায়
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে বড় হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইসরাইল গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন এবং গাজায় ব্যাপক মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়।
পরবর্তী সময়ে হামাসের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা নিহত হন। Yahya Sinwar নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। পরে Khalil al-Hayya রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।
তুরস্কে কার্যক্রম স্থানান্তরের খবর
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাস তাদের সাংগঠনিক পরিকল্পনা, সাইবার কার্যক্রম এবং কিছু গোপন অপারেশন তুরস্কে স্থানান্তর করছে। একই সময়ে কাতার সংগঠনটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবেই থাকছে।
তবে এসব তথ্য মূলত ইসরাইলি গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। হামাস, তুরস্ক বা কাতারের পক্ষ থেকে সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক অবস্থান
হামাসকে নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় বিভক্ত।
• যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
• অন্যদিকে কিছু দেশ হামাসের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে সংলাপের অংশ হিসেবে তাদের বিবেচনা করে।
এই ভিন্ন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভবিষ্যৎ কী?
গাজা যুদ্ধ, জিম্মি বিনিময়, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকার ওপর হামাসের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। সংগঠনটি একদিকে সামরিক চাপের মুখে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি রাজনীতিতেও নেতৃত্ব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
হামাসকে ঘিরে বিতর্ক যতই থাকুক, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি বোঝার জন্য সংগঠনটির ইতিহাস, আদর্শ, সাংগঠনিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি।
প্রয়োজনে এটিকে আরও বিশদ (৩,০০০–৪,০০০ শব্দ) বিশ্লেষণধর্মী ফিচারে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে, যেখানে হামাসের সামরিক সক্ষমতা, অর্থায়নের নেটওয়ার্ক, ইরান–কাতার–তুরস্কের ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আইন এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক প্রভাব আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।