প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ভোট যেভাবে হয়েছে, ফলাফলে যদি একই ধারা অব্যাহত থাকে, কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স না হয় বড় ধরনের, কেউ মেনে নিক-না নিক আমরা মেনে নেব- ইনশাআল্লাহ।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা-১৫ আসনে নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনে জামায়াত কেমন ফলাফল প্রত্যাশা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে আমির বলেন, ‘সারাদেশে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। আমাদের ধারণা রাত ১১টা পর্যন্ত হয়তোবা এটা একটা শেইপ নিতে পারে। এখনই অগ্রিম কিছু বলা আমাদের জন্য সমীচীন নয়।’
তবে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি এও বলেন, ‘প্রাথমিক যে ফলাফল আসতে শুরু করেছে, তাতে সে রকম একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এটাকে নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না। আমাদের আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে ধৈর্য ধরে।’
আমিরের পক্ষে দিনের দ্বিতীয় এই সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীকে ‘ইতিহাসের একটি দুঃখী’ দল হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। বলেন, ‘এ দলটি তার জন্মের পর থেকে বারবার নিষিদ্ধ হয়েছে, এবং কখনো নিষিদ্ধ হওয়ার পরে দলটি থেমে থাকেনি।’
নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ‘সকল দলকেই সাহায্যকারী হিসেবে পাশে পেতে চাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যাক্ত করেন শফিকুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক আতঙ্ক ছিল, অনেক ভয় ছিল, অনেক প্রোপাগান্ডা ছিল যে নির্বাচন হবে না। কেউ নির্বাচন করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত কমিশন-জনগণ আপনারা মিলে সুন্দর নির্বাচন করলেন।’
‘(এতে) রাজনৈতিক দলগুলোর যতটা না কৃতিত্ব, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব হচ্ছে এই নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সাথে যারা জড়িত ছিলেন এবং এই নির্বাচনকে বিভিন্ন দিক থেকে বাস্তবায়ন করার জন্য অর্থবহ করে তোলার জন্য যারা নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন।’
আজকের ভোটে দেশবাসী যেভাবে অংশ নিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সব কিছুর পরে নির্বাচনটা হয়ে গিয়েছে এবং বড় কোনো ক্যাজুয়ালটি হয়নি।’
এ পর্যায়ে নিজের নির্বাচনী আসনে জয়-পরাজয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের সমাজ একসাথে চলতে গেলে ভুল-ভ্রান্তি হতেই পারে। এই আসনেও যিনি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তিনি আমার সহযোদ্ধা-সহযোগীও ছিলেন। আজকেও দুইবার আমাদের দেখা হয়েছে। যখন আমরা এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছি, জয় একজনেরই হবে। বাকিজন এটা মেনে নিবে। এটাই স্বাভাবিক।’