প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার আগাম পূর্বাভাস এখনো নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আগাম প্রস্তুতি। সেই বিবেচনায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য এক লাখ স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করার সরকারের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী এবং দূরদর্শী পদক্ষেপ।
বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভূমিকম্পঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বড় নেটওয়ার্ক দুর্যোগ-পরবর্তী প্রথম কয়েক ঘণ্টায় জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকার ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করেছে এবং দ্রুত আরও ৩০ হাজারকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটি শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় একটি কাঠামোবদ্ধ প্রস্তুতিরও প্রতিফলন। তবে শুধু তালিকা তৈরি করলেই হবে না; প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম এবং বাস্তবধর্মী মহড়ার মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে।
সভায় জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সেল প্রতিষ্ঠা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের যে পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ঢাকা শহরে হিউম্যানিটারিয়ান স্টেজিং এরিয়া (এইচএসএ) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।
-6a2ad128af024.jpg)
তবে সফলতার মূল চাবিকাঠি থাকবে বাস্তবায়নে। কাগজে-কলমে পরিকল্পনা নয়, নিয়মিত মহড়া, ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকার, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতিই একটি কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারে।
ভূমিকম্প কখন হবে, তা মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু প্রস্তুতি নেওয়া সম্পূর্ণ আমাদের হাতে। আজকের পরিকল্পনা যদি আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভবিষ্যতের কোনো বড় দুর্যোগে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।