প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ, অল্প অল্প করে প্রস্রাব হওয়া কিংবা প্রস্রাবের গন্ধ ও রঙে পরিবর্তন—এসব উপসর্গ অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু এসব লক্ষণ ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) বা মূত্রনালির সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।
সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ মূত্রথলি থেকে কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি ইনফেকশন থেকে রক্তে সংক্রমণ বা সেপসিসও হতে পারে।
ইউরিন ইনফেকশন কী?
মূত্রনালির কোনো অংশে জীবাণুর সংক্রমণ হলে তাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা UTI বলা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার কারণে এই সংক্রমণ হয়ে থাকে। সংক্রমণ মূত্রনালিতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, আবার মূত্রথলি হয়ে কিডনিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
ইউরিন ইনফেকশন হলে সাধারণত—
• প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
• বারবার প্রস্রাবের বেগ
• অল্প অল্প করে প্রস্রাব হওয়া
• প্রস্রাব করার পরও পুরোপুরি খালি হয়নি এমন অনুভূতি
• তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি
• প্রস্রাব ঘোলা হওয়া
• প্রস্রাবে রক্ত দেখা
• প্রস্রাবের গন্ধ অস্বাভাবিক বা তীব্র হওয়া
এসব লক্ষণের একাধিকটি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কিডনিতে ছড়িয়ে পড়লে যেসব লক্ষণ
ইউরিন ইনফেকশনের সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, কোমর বা পিঠের একপাশে ব্যথা, বমি বা বমি ভাব দেখা দিলে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। বিশেষ করে উচ্চ জ্বর ও প্রচণ্ড দুর্বলতার সঙ্গে এসব উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

কী পরীক্ষা করা হয়?
UTI সন্দেহ হলে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রস্রাবের পরীক্ষা দিতে পারেন।
Urine R/E বা Urinalysis: প্রস্রাবে শ্বেত রক্তকণিকা, লোহিত রক্তকণিকা ও সংক্রমণের অন্যান্য লক্ষণ শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
Urine Culture & Sensitivity (C/S): প্রস্রাবে কোন জীবাণু রয়েছে এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিক সেই জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
বারবার UTI হলে বা কিডনি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা, কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ আরও কিছু পরীক্ষা দিতে পারেন।
চিকিৎসা কী?
ব্যাকটেরিয়াজনিত ইউরিন ইনফেকশনের ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। কোন ওষুধ, কত মাত্রায় এবং কতদিন খেতে হবে—তা রোগীর অবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে।
নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা উচিত নয়। ভুল ওষুধ ব্যবহার করলে সংক্রমণ পুরোপুরি ভালো নাও হতে পারে এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে নির্ধারিত নিয়মে কোর্স সম্পন্ন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পানি বেশি খাবেন?
সাধারণভাবে পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী হতে পারে। তবে যাদের কিডনি বা হৃদ্রোগের কারণে চিকিৎসক পানি সীমিত করে দিয়েছেন, তাদের নিজের সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত পানি পান করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করতে হবে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে কেন সতর্কতা বেশি?
পুরুষদের UTI হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বারবার সংক্রমণ হলে প্রোস্টেটের সমস্যা, প্রস্রাব পুরোপুরি বের না হওয়া, কিডনি বা মূত্রথলিতে পাথর কিংবা মূত্রনালিতে বাধা রয়েছে কি না—তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।
কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে?
প্রস্রাবের সমস্যার সঙ্গে নিচের কোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
উচ্চ জ্বর, কাঁপুনি, কোমর বা পিঠের পাশে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, প্রস্রাবে রক্ত, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা বিভ্রান্তি।
এসব লক্ষণ কিডনি ইনফেকশন বা গুরুতর সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।
প্রতিরোধে যা করবেন
ইউরিন ইনফেকশনের ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত তরল পান, প্রস্রাবের বেগ চেপে না রাখা, নিয়মিত মূত্রত্যাগ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বারবার UTI হলে শুধু ওষুধ না খেয়ে এর মূল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
মনে রাখতে হবে, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা বারবার প্রস্রাব হওয়াকে অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ইউরিন ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।