• ঢাকা সোমবার
    ১০ আগস্ট, ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঘন ঘন ঠান্ডা-কাশি কেন হয়, কখন চিন্তার কারণ এবং কী করবেন?

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১১:২০ পিএম

ঘন ঘন ঠান্ডা-কাশি কেন হয়, কখন চিন্তার কারণ এবং কী করবেন?

হেলথ ডেস্ক

ঋতু পরিবর্তন, আবহাওয়ার ওঠানামা, ধুলাবালি কিংবা ভাইরাসের সংক্রমণে ঠান্ডা-কাশি হওয়া খুবই সাধারণ। নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ, হাঁচি, গলা ব্যথা ও কাশি—এসব সাধারণ সর্দি-কাশির পরিচিত লক্ষণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাসজনিত ঠান্ডা-কাশি নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায় এবং বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।  

তবে কারও যদি বারবার ঠান্ডা লাগে বা একবার কাশি শুরু হওয়ার পর দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু সাধারণ সর্দি-কাশি হিসেবে দেখলে চলবে না। অ্যালার্জি, হাঁপানি, সাইনাসের সমস্যা, নাকের পেছন থেকে গলায় শ্লেষ্মা পড়া, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, ধূমপান বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার কাশির কারণ হতে পারে।  

ঘন ঘন ঠান্ডা লাগে যাঁদের | প্রথম আলো

সাধারণ ঠান্ডা-কাশির লক্ষণ

সাধারণ ভাইরাসজনিত ঠান্ডায় কয়েকটি লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। যেমন—
    •    নাক দিয়ে পানি পড়া
    •    নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
    •    বারবার হাঁচি
    •    গলা খুসখুস বা ব্যথা
    •    শুকনো বা কফসহ কাশি
    •    মাথাব্যথা
    •    শরীরে হালকা ব্যথা
    •    সামান্য জ্বর
    •    দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা

সাধারণ ঠান্ডার উপসর্গ অনেক সময় সংক্রমণের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বেশি তীব্র হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি দেখা যায়। তবে কাশি আরও কিছুদিন থাকতে পারে।  

Doctor Explains Information About Whooping Cough

ঘন ঘন ঠান্ডা লাগার কারণ কী?

বারবার ঠান্ডা লাগার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসে বারবার সংক্রমণ হতে পারে। একই সঙ্গে অ্যালার্জি বা পরিবেশগত কারণেও ঠান্ডার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে ধুলাবালি, ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, তীব্র গন্ধ বা ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে কারও কারও কাশি ও নাকের সমস্যা বাড়তে পারে।

এ ছাড়া হাঁপানি, সাইনাসের সমস্যা এবং নাকের পেছন থেকে গলায় শ্লেষ্মা পড়ার কারণেও দীর্ঘদিন কাশি থাকতে পারে। অ্যাসিড রিফ্লাক্সও কিছু মানুষের দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণ হতে পারে।  

ঠান্ডা-কাশি হলে কী করবেন?

সাধারণ ঠান্ডা-কাশির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কুসুম গরম তরল পান করলে গলা আরাম পেতে পারে।

নাক বন্ধ থাকলে saline nasal spray বা drops ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের বাতাস শুষ্ক হলে পরিষ্কার humidifier বা cool-mist vaporizer ব্যবহার করাও উপকারী হতে পারে। গলা খুসখুস করলে বড়দের ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানিতে মধু ব্যবহার করে আরাম পাওয়া যেতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না।  

জ্বর বা শরীর ব্যথা থাকলে উপযুক্ত ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো—বিশেষ করে নিয়মিত অন্য কোনো ওষুধ সেবন করলে।

অ্যান্টিবায়োটিক কি প্রয়োজন?

সাধারণ ভাইরাসজনিত ঠান্ডা-কাশিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না। প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে।  

তবে চিকিৎসক যদি পরীক্ষা করে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ শনাক্ত করেন, তখন প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। তাই নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা উচিত নয়।

কাশি কতদিন থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

সাধারণ কাশি অনেক সময় তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে তিন সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দীর্ঘদিনের কাশির পেছনে হাঁপানি, অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অন্য কোনো শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা থাকতে পারে।  

বারবার ঠান্ডা-কাশি ফিরে এলেও কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বুকের পরীক্ষা, কফ পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে, অ্যালার্জি পরীক্ষা বা ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে পারেন।  

কোন লক্ষণগুলো বিপদের সংকেত?

ঠান্ডা-কাশির সঙ্গে নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুকব্যথা, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, খুব বেশি অসুস্থ বোধ করা, পানিশূন্যতার লক্ষণ, চার দিনের বেশি জ্বর থাকা অথবা ১০ দিনের পরও উপসর্গের উন্নতি না হওয়া।  

উপসর্গ কিছুটা ভালো হওয়ার পর আবার জ্বর বা কাশি বেড়ে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কখনো ভাইরাসজনিত সংক্রমণের পর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।  

বারবার ঠান্ডা-কাশি হলে কী পরীক্ষা লাগতে পারে?

একজন ব্যক্তির কত ঘন ঘন ঠান্ডা-কাশি হচ্ছে, কতদিন ধরে হচ্ছে এবং সঙ্গে অন্য কী উপসর্গ রয়েছে—এসবের ওপর পরীক্ষা নির্ভর করে।

চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে—
    •    বুক ও ফুসফুস পরীক্ষা
    •    বুকের এক্স-রে
    •    কফ পরীক্ষা
    •    অ্যালার্জি পরীক্ষা
    •    ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষা
    •    প্রয়োজন অনুযায়ী COVID-19 বা ইনফ্লুয়েঞ্জা পরীক্ষা

করাতে পারেন।  

ঠান্ডা-কাশি থেকে বাঁচতে যা করবেন

শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া কমাতে অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ কমানো, কাশি বা হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ধুলাবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলা, ধূমপান না করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়াও উপকারী।

যাদের বয়স বেশি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম অথবা অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে, তাদের ঠান্ডা-কাশির উপসর্গ দেখা দিলে তুলনামূলক দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। COVID-19 বা ফ্লুর আশঙ্কা থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা দ্রুত শুরু করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।  

অবহেলা করা উচিত নয়

ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা বা কাশি সবসময় গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। বেশিরভাগ সাধারণ ঠান্ডা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে বারবার ফিরে আসা, তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, রক্ত ওঠা বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের মতো লক্ষণ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ খুঁজে সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

আর্কাইভ