• ঢাকা সোমবার
    ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

ইরান নিয়ে ভারত থেকে ছড়ানো হলো গুজব, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রে হুলস্থুল

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

ইরান নিয়ে ভারত থেকে ছড়ানো হলো গুজব, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রে হুলস্থুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভুয়া তথ্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। ভারতের একটি অজ্ঞাত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত একটি ভুয়া বক্তব্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি গণমাধ্যম, শীর্ষ রাজনীতিবিদ এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে।

ভুয়া সেই তথ্যের ফাঁদে পড়েন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও। এক বক্তৃতায় ওই ভিত্তিহীন দাবিকে ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রথম প্রকাশ্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র হাস্যরস ও আলোচনার ঝড় ওঠে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ আগস্ট। ভারতের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদি ঘোষণা দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা পর্যন্ত ইরানও তা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাবে। পোস্টটির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি পারমাণবিক বিস্ফোরণের ছবিও যুক্ত করা হয়। তবে অনুসন্ধানে ওই কর্মকর্তার এমন কোনো বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ভারতের অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানোর পরপরই ইসরায়েলি ও মার্কিন গণমাধ্যম এবং রাজনীতিবিদেরা খবরটি যাচাই ছাড়াই বিশ্বাস করে বসেন। ‘মোসাদ কমেন্টারি’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১৪’ খবরটি প্রচার করার পরপরই নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু তা শেয়ার করেন। তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার সরকারি বক্তৃতায় ওই ভুয়া দাবি তুলে ধরেন।

একই হাওয়া লাগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এবং রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট ভুয়া পোস্টটি শেয়ার করে ইরানের কড়া সমালোচনা করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজও বিষয়টি সম্প্রচার করে। তবে সত্যতা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর মাইক ওয়াল্টজ তার পোস্টটি মুছে দেন এবং ফক্স নিউজ খবরটি ‘ভুল ও যাচাইহীন’ উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই ঘটনাকে ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যার বন্যা’ বলে উড়িয়ে দেন এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, তা পুনর্ব্যক্ত করেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি বিশ্বরাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘ন্যারেটিভ লন্ডারিং’-এর এক বড় উদাহরণ—যেখানে একটি ভুয়া তথ্য একের পর এক অসাধু চক্র ও প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত ঘুরে বিশ্বমঞ্চে সাময়িকভাবে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিল।
 

আর্কাইভ