• ঢাকা শনিবার
    ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শুরুতেই ব্রাজিলের মরক্কো-পরীক্ষা

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

শুরুতেই ব্রাজিলের মরক্কো-পরীক্ষা

ক্রীড়া ডেস্ক

৩২ বছর পর বিশ্বকাপের আসর ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্রে। আর এই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই হয়তো নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল।

তবে মিশন শুরুর আগেই তাদের সামনে পাহাড়সম এক চ্যালেঞ্জ প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মরক্কো।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল আছে ষষ্ঠ স্থানে, আর মরক্কোর অবস্থান অষ্টম।

এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শীর্ষ দশে থাকা দুটি দলের লড়াই কেবল এই একটি ম্যাচেই দেখা যাবে। তাই শুরুতেই যে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সেলেসাওরা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ব্রাজিল দলকে সমর্থন করা সবসময়ই ভক্তদের জন্য এক বড় মানসিক পরীক্ষা। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে পঞ্চম হয়ে কোনোরকমে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে তারা, যা গত ৩০ বছরের ইতিহাসে দলটির সবচেয়ে বাজে ফল।

বলা যায়, একটুর জন্য বড় কোনো বিপদ থেকে বেঁচে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই অস্বস্তিকর অতীত নিয়েই তারা শুরু করতে যাচ্ছে এবারের মিশন। তারকা কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে থাকা এই দলে রয়েছেন বড় মাপের স্ট্রাইকার নেইমার। তবে দলে তার অন্তর্ভুক্তিকে অনেকেই ‍‍`আবেগপ্রসূত‍‍` সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি অনুশীলন সেশনে দেখা যায়নি তাকে। প্রথম ম্যাচের আগে তার ফিটনেস নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা দলের ভেতরে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি করেছে, ঠিক এমন একটা সময়ে যখন পুরো দলের পুরোপুরি প্রস্তুত থাকার কথা।

অন্যদিকে, মরক্কো এখন আর কেবল ‍‍`আন্ডারডগ‍‍` বা চমক জাগানো কোনো দল নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার মাঠে নামছে তারা। সেই সাফল্য যে হঠাৎ করে পাওয়া কিছু ছিল না, তা তারা প্রমাণ করেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আট ম্যাচের সবকটিতে জিতে। এছাড়া সেনেগালের বিপক্ষে মাঠের বাইরের বিতর্কিত এক জয়ে ২০২৫ সালের আফ্রিকান কাপ অব নেশন্স (আফকন) জয়ের খেতাবও তাদের সঙ্গী। সব মিলিয়ে আরও একবার বিশ্বকাপে বহুদূর যাওয়ার জন্য আটলাস লায়নরা পুরোপুরি প্রস্তুত।

গ্রুপের অন্য দুই দল স্কটল্যান্ড ও হাইতি কাগজে-কলমে খুব একটা শক্তিশালী নয়। ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের পর্বে গেছে ব্রাজিল। কোচ আনচেলত্তি নিশ্চয়ই চাইবেন তার আমলে এই রেকর্ডে যেন কোনো দাগ না পড়ে। তাই অনায়াসেই বলা যায়, গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের একমাত্র কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে এই মরক্কোই এবং এখানে ভুল করা তাদের জন্য একেবারেই নিষিদ্ধ।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই স্নায়ুচাপের হয়। এখানে আগের পরিসংখ্যান, প্রস্তুতি বা সাম্প্রতিক ফর্ম খুব একটা কাজে দেয় না। প্রথম ম্যাচে সাধারণত কোনো দলই খুব বেশি আক্রমণাত্মক বা খোলাখুলি ফুটবল খেলে না। ব্রাজিল মাঠে নামবে অযথা নিজেদের অরক্ষিত না করে আসরে একটি শক্তিশালী সূচনা করার মানসিকতা নিয়ে। আর ঠিক এই সুযোগটারই অপেক্ষায় থাকবে মরক্কো। তারা চাইবে ব্রাজিলের খেলায় সামান্যতম স্নায়ুচাপ বা ভুলের লক্ষণ খুঁজে বের করতে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এক দারুণ মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত লড়াইয়ের মুখে দাঁড়াতে যাচ্ছে আনচেলত্তির ব্রাজিল।

ক্রীড়া জগৎ সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ