প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এবার দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সয়াবিন তেল, দুধ ও চিনিতেও উচ্চমাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই অজান্তে মানবদেহে প্রবেশ করছে হাজার হাজার ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু সয়াবিন তেলের মাধ্যমেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আরও বেশি। একজন শিশু প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি, অর্থাৎ বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি প্লাস্টিক কণা শরীরে গ্রহণ করতে পারে বলে গবেষকদের হিসাব।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত দুধ পরীক্ষা করে প্রতি ১০ মিলিলিটার প্রসেসড দুধে গড়ে ১৫৬.০৬টি এবং কাঁচা দুধে ৯৩.৩৯টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্লাস্টিকের বোতল বা প্যাকেটে সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপে এসব কণা খাদ্যে মিশে যেতে পারে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে প্রায় ৪০৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, প্লাস্টিকের বস্তা, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও সংরক্ষণের সময় দূষণের কারণে এসব কণা চিনিতে মিশছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে সয়াবিন তেলে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার এবং বোতলজাত তেলে ৪৪ হাজার থেকে ৫৪ হাজার পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের কিছু ক্ষুদ্র কণা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে মানুষের শরীরে ঠিক কত পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক কী ধরনের ক্ষতি করে, সে বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
এদিকে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) জানিয়েছে, বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কোনো পণ্য বা ব্র্যান্ডকে অনিরাপদ বলা হবে না। একই সঙ্গে সরকার বিষয়টিকে একটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে না রাখা, নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।