প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-ঠান্ডা হওয়া স্বাভাবিক। তবে যদি বারবার ঠান্ডা লাগে, তাহলে বিষয়টিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া, অ্যালার্জি, অপুষ্টি কিংবা কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বছরে দুই থেকে তিনবার ভাইরাসজনিত সর্দি-ঠান্ডা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি হলে জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান, বায়ুদূষণ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাসও বারবার ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, ভিটামিন সি ও জিংকসমৃদ্ধ খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে হাত পরিষ্কার রাখা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে সতর্ক থাকা সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে ঠান্ডার সঙ্গে যদি টানা জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কফের রঙ পরিবর্তন, ১০ থেকে ১৪ দিনের বেশি উপসর্গ স্থায়ী হওয়া বা বারবার সাইনাস ও ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এসব লক্ষণ সাধারণ ভাইরাসজনিত ঠান্ডার বাইরে অন্য কোনো রোগেরও ইঙ্গিত দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখাই ঘন ঘন ঠান্ডা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।