• ঢাকা বুধবার
    ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ২৫৪, ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণপণ উদ্ধার

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ২৫৪, ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণপণ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দ্বিতীয় দিনের মতো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সর্বশেষ প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ২৫৪ জনে পৌঁছেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কালি ও পেরেইরা।  

সোমবার স্থানীয় সময় সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পটি পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এতে আবাসিক ভবন, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধসে পড়ে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও জীবিতদের সন্ধানে হাতে হাতে ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন।  

ভূমিকম্পের পর থেকে একের পর এক আফটারশক অনুভূত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে উদ্ধার অভিযান চালানো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রত্যন্ত ও আদিবাসী অধ্যুষিত কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।  

ধ্বংসস্তূপে এখনো জীবনের সন্ধান

উদ্ধার অভিযানে এরই মধ্যে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার পেরেইরায় একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। শিশুসহ আরও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাও উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে।  

তবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও স্থানীয় হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রেসিডেন্টের দেওয়া সরকারি হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা কয়েকশ হলেও বেসামরিক ডাটাবেস ও স্থানীয় অনুসন্ধান তালিকায় ৩ হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।  

কালি ও পেরেইরায় ভয়াবহ পরিস্থিতি

দেশটির অন্যতম বড় শহর কালি ও পেরেইরায় ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়ায় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় মর্গের ধারণক্ষমতাও পূর্ণ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।  

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকারীরা রাতদিন কাজ করছেন। ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।  

জরুরি অবস্থা, বাড়ছে আন্তর্জাতিক সহায়তা

ভূমিকম্পের পর প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত করার পাশাপাশি সরকার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ কলম্বিয়াকে জরুরি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।  

এদিকে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা জায়গা ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।  

সর্বশেষ হিসাবে, মৃতের সংখ্যা ২৫৪ জনে পৌঁছালেও ধ্বংসস্তূপে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ